আমাদের জীবনে চলার পথে প্রতিনিয়ত কত বাধা এবং কত বিপর্যয় আসে - প্রতিনিয়ত এসবের মুখোমুখি হয়ে মোকাবিলা করেই আমাদের বাঁচতে হয়। আমাদের সেই জীবনে কখনও আসে শারীরিক অসুস্থতা, কখনও মানসিক অস্থিরতা কিংবা কখনও বা আর্থিক অসংগতি যেমন ব্যবসায়িক মন্দা, চাকুরী না পাওয়া, বেকারত্ব, হঠাৎ অভাব কিংবা বিপর্যয় ইত্যাদি ইত্যাদি। তখন এমনও হয় যে চারিদিকে খুজেও আদৌ কোনো সমাধান খুঁজে পাওয়া যায় না - ঠিক তখনই বিশ্বাসী মন এক নিরাপদ আশ্রয় খুঁজে ফিরে যেখানে সে পরম নির্লপ্ত'তায় নিজেকে উৎসর্গ করে আপন মনের সবটুকু উজার করে দিয়ে কাঙ্খিত চাওয়া ও পাওয়া এক **আল্লাহর নিকট সপে দিতে পারবে** (প্রতিটি মুসলমান মাত্রই)।

এখন আমাদের একটি বিষয় দেখতে হবে আদৌ এমন সময়ে আল্লার নিকট ঠিক কিভাবে দোয়া করলে কিংবা কেমন করে দোয়া করলে সেটা গ্রহণযোগ্য হয় - আবার সেই দোয়া কখন করতে হবে এবং কোন শর্ত আছে কিনা (ইসলামিক নিয়ম) সেটাও জানা জরুরি।

দুআ কবুল হওয়ার শর্তাবলী:

আসুন এই টার্মগুলো পরিষ্কার হই:

**দ্রষ্টব্য:** Noor Application এর 'দুআ হাব' তে ডিটেইলস পাওয়া যাবে।
 * **শুধুমাত্র আল্লাহর কাছে দোয়া করা:** দোয়া কোনো মধ্যস্থতাকারীর মাধ্যমে নয়, সরাসরি আল্লাহর কাছে করা উচিত। উৎস: কুরআন ২:১৮৬ * **গুনাহ ও রিশতার সম্পর্ক ভঙ্গ থেকে পরিত্রাণ:** পাপ এবং রিশতা ছিন্ন হলে দোয়ার কবুল হওয়ার সম্ভাবনা কমে যায়। উৎস: হাদীস: বুখারি, মুসলিম * **বিশ্বাস ও আশাবাদ রেখে দোয়া করা:** মনে দৃঢ় বিশ্বাস থাকতে হবে যে আল্লাহ দোয়া শুনছেন ও সাড়া দিবেন। * **হালাল রুজি – জীবিকার উৎস নিশ্চিত করা:** রুজি যদি হালাল না হয়, তাহলে দোয়ার কবুল হওয়ার সম্ভাবনা কম। 
 * **কোনো পাপ বা গুনাহের জন্য অনুতপ্ত হয়ে দোয়া করা:** পাপের জন্য সত্যিকার অনুতপ্ত হলে আল্লাহ দোয়া গ্রহণ করেন। উৎস: কুরআন ৪:১৭ * **দোয়া করার সময় কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা:** আল্লাহর পূর্বানুমোদিত দান ও রহমতের জন্য ধন্যবাদ দেওয়া। উৎস: কুরআন ১৪:৭ * **সৎ কাজের সঙ্গে দোয়া করা:** সৎ কাজ যেমন যাকাত, সদকাহের সঙ্গে দোয়া বরকত বৃদ্ধি করে। উৎস: কুরআন ২:২৭২ * **রোজার সঙ্গে দোয়া করা:** রোজা ও ইফতারের সময় দোয়া বিশেষভাবে কবুল হয়। উৎস: হাদীস: মুসলিম * **দোয়ার আগে ‘বিসমিল্লাহ’ বলা:** দোয়ার শুরুতে আল্লাহর নাম স্মরণ বরকত বৃদ্ধি করে। উৎস: কুরআন ১:১ * **সদকাহ বা হরেক ইবাদতের সঙ্গে দোয়া করা:** সৎকর্ম ও দোয়া মিলিত হলে বরকত বৃদ্ধি পায়। উৎস: কুরআন ২:২৭২ 

🕌 রুকাইয়া প্রসঙ্গে....

বর্তমানে প্রচলিত "রুকাইয়া" এবং এর বহুবিধ প্রচার ও প্রসারণ এর সাথে বাণিজ্য মিশিয়ে ইসলামীক রুকাইয়া অনেকটাই বিতর্কিত এবং কিছু ক্ষেত্রে সেটা অকার্যকর হয়েছে - **মিথ্যা অপেক্ষা আংশিক সত্য যেমন অধিক ভয়ংকর!**

আসুন দেখা যাক ইসলাম রুকাইয়া সম্পর্কে ঠিক কি বলে?

রুকাইয়া সম্পর্কে ইসলামে কি বলে এবং এর গ্রহণযোগ্য রেফারেন্স:

রুকাইয়া (রুকইয়াহ বা রুক্‌ইয়াহ) ইসলামে সম্পূর্ণ বৈধ ও প্রমাণিত একটি আমল যা কুরআনের আয়াত, আল্লাহর নামসমূহ, এবং সহীহ দোয়াগুলোর মাধ্যমে চিকিৎসা করা বোঝায়। কুরআন ও সহীহ হাদীস থেকে রুকাইয়ার স্পষ্ট প্রমাণ ও দলীল [সহজে তথ্য সংগ্রহ ও ভেরিফাই করতে নিচের অংশগুলো ইন্টারনেট হতে পাওয়া এবং আর্টিকেলটির গ্রহনযোগ্যতা বিবেচনায় ব্যক্তিগতভাবে ক্রস চেক করা হয়েছে - উপারম্ভ যে কেউ এটা ভেরিফাই করতে পারেন হাদীস বা কুরআনের আয়াত সংখ্যা/রিসোর্স হতে]।

**১. কুরআন থেকে প্রমাণ: শিফা (আরোগ্য)

আল্লাহ বলেন:

"আমি কুরআনে মু’মিনদের জন্য যা নাজিল করি তা **শিফা এবং রহমত**।" (সূরা আল-ইসরা 17:82)

**২. হাদীস থেকে রুকাইয়ার প্রমাণ

 * **রাসুল ﷺ রুকাইয়া করেছেন:** আয়িশা (রা.) বলেন: > “রাসুল ﷺ পরিবারবর্গের উপর রুকাইয়া করতেন।” (সহীহ বুখারী, 5738) * **সাহাবারা রুকাইয়া করতেন (সুরা ফাতিহা):** সাহাবীরা সুরা ফাতিহা পড়ে একজনকে সুস্থ করেন। এ সম্পর্কে শুনে নবি ﷺ বলেন: > “তোমার জানা কি ফাতিহা রুকাইয়া?” (সহীহ বুখারী, 2276) * **বৈধ রুকাইয়ার অনুমতি (শির্কমুক্ত):** আউফ ইবন মালিক (রা.) বলেন: > “আমরা জাহিলিয়াতের সময় রুকাইয়া করতাম। আমরা বললাম: হে আল্লাহর রাসুল, এতে আপনার মত কী? তিনি বললেন: ‘যে রুকাইয়াতে শির্ক নেই, তা বৈধ।’” (সহীহ মুসলিম, 2200) * **রাসুল ﷺ অপদেবতা-বদ নজর থেকে রুকাইয়া পড়তেন:** > “রাসুল ﷺ তিনি হাসান ও হুসাইনের ওপর রুকাইয়া পড়তেন।” (সহীহ বুখারী, 3371) * **দুঃখ-কষ্ট, জিন, অসুস্থতা - সব রোগে রুকাইয়া:** > “যে ব্যক্তি আমার উম্মতের কাউকে উপকারে আসে (যেমন রুকাইয়া), তার জন্য সাওয়াব রয়েছে।” 

**৩. রুকাইয়া কিভাবে করা যায়? (সুন্নাহসম্মত পদ্ধতি)

শির্কমুক্ত, সুন্নাহসম্মত, একদম সহজ ও কার্যকর রুকাইয়ার নিদর্শন হলো " একটি পবিত্র ঘরে ওযু অবস্থায় সঠিক নিয়্যাত রেখে কুরআনের ঐসব আয়াত পাঠ করা এবং পরবর্তীতে নিজেই নিজেকে ফু দেওয়া। এছাড়াও পানিতে ফু দিয়ে সেটা পান/গোছল করা / হাতের তালুতে ফু দেয়াি ইত্যাদি"।

 আয়িশা (রা.) বলেন: > "আমি রাসুল ﷺ–এর ওপর রুকাইয়া করতাম, তাঁর হাত ধরে তাঁর শরীরের উপর বুলাতাম, কারণ তাঁর নিজের হাতের বরকত আমার হাতের চেয়ে বেশি ছিল।" (সহীহ বুখারী, হাদীস 5016 / 5735 এর বিভিন্ন রিওয়ায়াত) 

ঠিক এমনই নিমিত্তে Noor এপ্লিকেশনের রুকাইয়া গাইড হতে প্রখ্যাত আলেমদের কুরআন তিলাওয়াত (রুকাইয়া) সেশান এর অডিও রাখা হয়েছে।

দোয়া কবুল হওয়ার মুনাজাত

অন্যদিকে "মুনাজাত" অংশে আল্লাহর নিকট দোয়া কবুল হতে পরিপূর্ণ দোয়ার সাথে কখন কোন দোয়া কিভাবে করতে হয়? কিভাবে আপনি কতোটা ডেডিকেটেড হয়ে আল্লাহর নিকট চাইছেন? আল্লাহপর ওপর আস্থা ও বিশ্বাস রেখে দোয়া করার গাইড এবং ভরসা রাখার একটি যথাপোযুক্ত (যতোটা সম্ভব) ওয়েব ইন্টারফেইস তৈরী করা।

Noor Application: Noor - Islamic Ruqyah & Dua

**একটি বিশেষ বার্তা**
সবিশেষ একটি কথা যে যেমন ধর্মে বিশ্বাসী বা অবিশ্বাসী হউন - এটা খুবই ঠুনকো একটি বিষয় তথাপি আপনার যে মানসিকতা সেখানে "বিশ্বাস" এর গুরুত্ব অপরিসীম।
উদাহরণস্বরূপ আপনাকে যদি ১০০ তলা বিল্ডিং এর রেলিং এর ওপর হাটতে বলা হয় তবে অবশ্যই আপনি ভয় পাবেন এবং খুব সম্ভাবত এক্সিডেন্ট করবেন – সেই আপনাকেই যদি মাত্র ১ মিটার উচু উঠিয়ে হাটতে বলা হয় তবে অবশ্যই আপনি নিঃসংকোচে হাটতে পারবেন; কেননা তখন আপনার মাঝে ভয় কাজ করে না বরং আত্মবিশ্বাস থাকে যে অবশ্যই “আপনি পারবেন” যেখানে ভয়ের আশঙ্কা থাকছে না – তেমনি ধর্মীয় ক্ষেত্রেও আপনি যে ধর্মেই বিশ্বাসী হউন সেটাকে ইউটিলাইজ করে আপনি যদি এগিয়ে যান তবে সফলতার সাথে সাথে মানসিক স্যাটিসফেকশান গেইন করতে সক্ষম হবে আশা করা যায়।

✨ **শুভকামনা ও ভালোবাসা রইলো** ✨